মনের মুখোশ
আর ভালো লাগছে না, অনেকদিন হলো বাড়ি বসে থাকা। মনটার মধ্যে যেন সবসময় একটা আনচান আনচান ভাব। রোজ সকাল থেকে শুরু করে রাত অবধি হাড়ভাঙ্গা বিশ্রামএর এই কঠোর শাস্তি আর যেন নিতে পারছি না। কি করে এই রোজকার বিশ্রাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় , ভাবতে ভাবতে চোখ পড়লো আমার ৩৫০cc এর পক্ষীরাজ এ। আর যেমন ভাবনা, তেমন কাজ ঠিক করলাম চলে যাবো একটা নির্জন সমুদ্র কিনারায়। সেখানে গিয়ে কয়েকদিন শুধু প্রকৃতির শোভা দেখবো, মাছ ধরবো, ঠিক যেন "Discovery Channel".
ব্যাকপ্যাক সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাত ৩টের সময়, জানি অতো রাতে পুলিশী ঝামেলায় পড়তে হবে না। মন আমার আনন্দে ডগমগ। বেরোনোর সময় বাবা -মায়ের বারণ , আমার স্ত্রী কল্যাণীর মলিন মুখ আমার মেয়ে মিষ্টির শত অনিচ্ছা অগ্রাহ্য করে দিলাম Start আমার Royal Enfield এ। এই ব্র্যান্ডটাই এমন, এর ওপর বসলেই নিজেকে রাজা ছাড়া অন্যকিছু ভাবাই দুষ্কর। ফার্স্ট গিয়ার্ , সেকেন্ড গিয়ার্ , একেবারেই ফিফ্থ গিয়ার্ এই চললাম আমি GPS on করে পুরুষোত্তমপুর , দীঘার কাছেই।
সমস্ত টোলট্যাক্স গুলো কাটিয়ে ভেতরের রাস্তা ধরে চলেছি আমি , কোলাঘাটের কাছাকাছি এসে খুব মনে পড়ছিলো পরিবারের কথা, বন্ধুদের কথা, যতবার এসেছি বাজেট অনুযায়ী হয় শের-এ-পাঞ্জাব নাহলে অন্য কোনো রেস্টুরেন্ট এ নেবে দারুন জমিয়ে আড্ডা মেরে খাওয়া-দাওয়া করেছি। এই মুহূর্তে সেই উপায় নেই,ভাবতে ভাবতে সামনেই দেখি পুলিশ চেকপোস্ট পুরো রাস্তা জুড়ে। আমি কৃষ্ণনাম জপা শুরু করলাম আর সবার মুখ গুলো যেন আমার চোখের সামনে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডের মতো এক এক করে চলে যাচ্ছিলো। মিষ্টির সাথে মনে হয় আর দেখা হলো না, আমার বাড়ি ফেরা আর হলো না, কেনো কারোর কথা শুনলাম না।
গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো হলো। আমাকে নামতে বলা সত্ত্বেও আমি নানা কারণ দেখতে থাকলাম আর তোতলাতে থাকলাম।পুলিশটি বার বার বলা সত্ত্বেও আমার আচরণের জন্য আমার জামার কলার ধরে হিচড়ে নামিয়ে বলছে ..... "কি হলো পাপা, তুমি যে বলেছিলে সকালে উঠে আমাকে নিয়ে ফুটবল খেলবে.....!!" আমি চোখ খুললাম, হাসলাম, ভাবলামার কয়েকদিন না হয় নিজের ডানা দুটো গুটিয়ে রাখাই শ্রেয়। এক গাল হাসলাম, বললাম চল মা , ফুটবল খেলি।
No comments:
Post a Comment