Monday, 11 May 2020

মনের মুখোশ...

মনের মুখোশ  

আর ভালো লাগছে না, অনেকদিন হলো বাড়ি বসে থাকা। মনটার মধ্যে যেন সবসময় একটা আনচান আনচান ভাব। রোজ সকাল থেকে শুরু করে  রাত অবধি হাড়ভাঙ্গা বিশ্রামএর এই কঠোর শাস্তি আর যেন নিতে পারছি না। কি করে এই রোজকার বিশ্রাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় , ভাবতে ভাবতে চোখ পড়লো আমার ৩৫০cc  এর পক্ষীরাজ এ। আর যেমন ভাবনা, তেমন কাজ ঠিক করলাম চলে যাবো একটা নির্জন সমুদ্র কিনারায়।  সেখানে গিয়ে কয়েকদিন শুধু প্রকৃতির শোভা দেখবো, মাছ ধরবো, ঠিক যেন "Discovery Channel".
                                                  
                ব্যাকপ্যাক সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাত ৩টের সময়, জানি অতো  রাতে পুলিশী ঝামেলায় পড়তে হবে না।  মন আমার আনন্দে ডগমগ। বেরোনোর সময় বাবা -মায়ের বারণ , আমার স্ত্রী কল্যাণীর মলিন মুখ আমার মেয়ে মিষ্টির শত অনিচ্ছা অগ্রাহ্য করে দিলাম Start আমার Royal  Enfield  এ।  এই ব্র্যান্ডটাই  এমন, এর ওপর বসলেই নিজেকে রাজা ছাড়া অন্যকিছু ভাবাই দুষ্কর।  ফার্স্ট গিয়ার্ , সেকেন্ড গিয়ার্ , একেবারেই ফিফ্থ গিয়ার্ এই চললাম আমি GPS  on করে পুরুষোত্তমপুর , দীঘার কাছেই। 
                   
                              সমস্ত টোলট্যাক্স গুলো কাটিয়ে ভেতরের রাস্তা ধরে চলেছি আমি , কোলাঘাটের কাছাকাছি এসে খুব মনে পড়ছিলো পরিবারের কথা, বন্ধুদের কথা, যতবার এসেছি বাজেট অনুযায়ী হয় শের-এ-পাঞ্জাব নাহলে অন্য কোনো রেস্টুরেন্ট এ নেবে দারুন জমিয়ে আড্ডা মেরে খাওয়া-দাওয়া করেছি। এই মুহূর্তে সেই উপায় নেই,ভাবতে ভাবতে সামনেই দেখি পুলিশ চেকপোস্ট  পুরো রাস্তা জুড়ে।  আমি কৃষ্ণনাম  জপা শুরু করলাম আর সবার মুখ গুলো যেন আমার চোখের সামনে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডের মতো এক এক করে চলে যাচ্ছিলো।  মিষ্টির সাথে মনে হয় আর দেখা হলো না, আমার বাড়ি ফেরা আর হলো না, কেনো কারোর কথা শুনলাম না।  

           গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো হলো।  আমাকে নামতে বলা সত্ত্বেও আমি নানা কারণ দেখতে থাকলাম আর তোতলাতে থাকলাম।পুলিশটি বার বার বলা সত্ত্বেও আমার আচরণের জন্য আমার জামার কলার ধরে হিচড়ে নামিয়ে বলছে ..... "কি হলো পাপা, তুমি যে বলেছিলে সকালে উঠে আমাকে নিয়ে ফুটবল খেলবে.....!!" আমি চোখ খুললাম, হাসলাম, ভাবলামার কয়েকদিন না হয় নিজের ডানা দুটো গুটিয়ে রাখাই শ্রেয়। এক গাল  হাসলাম,  বললাম চল মা , ফুটবল খেলি।  

Andhokosh

অন্ডকোষ 

এ এক দারুন অভিজ্ঞতা। তার ভিত্তিতেই আর একবার লেখার প্রয়াস। মাননীয় পাঠিকা ও পাঠক গনের কাছে নিবেদন কিছু ভুল হলে মার্জনা করে দেবেন। বয়স হলো প্রায় ৪০ বছর, কিন্তু ব্যক্তিত্ব এর কথা যদি বলা যায় তবে আমার সাহবাসীরা বলেন আমার বয়স ১০ বছর এর  সমান। কারন স্বরূপ, বয়স বারবার সাথে সাথে যে সাধারণ গুণগুলি মানুষের মধ্যে অসাধারন ভাবে প্রকট হওয়া উচিত সেগুলো আমার মধ্যে খুব কম ভোল্টেজ এ জ্বলা বাল্বের ফিলামেন্ট এর মতো টিম টিম করে অথবা ডাম্প ধরা দেশলাই এর বারুদের মতো ফুস করে জ্বলে আবার নিভে যায়. ফল স্বরূপ শুধুই খানিকটা ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধ।
            সামাজিক ভাবে দেখা গেলে জানা যাবে (১.) ধন , (২.) ব্যক্তিত্ব ও গাম্ভীর্য, (৩.) আত্মকেন্দ্রীকতা। থুড়ি, আত্মকেন্দ্রিকতা বললে বলা ভুল হবে, এটা অনেকটা নিজের কথা ভাবার জন্য অনেকটা যত্ন করে সময় তুলে রাখার মতো সাহস ও ইচ্ছা। তবে হ্যাঁ, এই সমস্ত গুনগুলির  মধ্যে কিন্তু কেন্দ্রীয় চরিত্র কেবল মাত্র গুন্ নং ১. অর্থাৎ কিনা "ধন". এটা অনেকটা রাসায়নিক বিক্রিয়ার অনুঘটক এর মতো কাজ করে. এই ১ নং গুনের ওপর ভিত্তি করে পিতা -মাতাও তাঁদের ভালোবাসার লাটাই এর সুতো সন্তানের দিকে বাড়ান বা কমান অথবা কখনো বা ভোকাট্টা করে দেন.
              একজন ধনশালী মানুষ যদি সমাজের জন্য ভাবেন তবে তিনি বিশিষ্ঠ "সমাজসেবী" আখ্যাতে ভূষিত হন এবং এটাই "সামাজিক". কিন্তু একজন ধেড়ে, বেকার যদি এই সমাজসেবার কাজটার জন্যই এগিয়ে যাই নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়োগ করে তবে সে "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছে" বলে ভূষিত হয়.
     অভিজ্ঞাতা বলে, ব্যক্তিগত ভাবে তার পরিবারের তুলনায় তুলনামূলক আর্থিক কম সাচ্ছন্দ কোনো পুরুষ যদি পিতা হন তবে তার সন্তান কেও সঠিক শিক্ষা দেবার জন্য পরিবার এর বাকিদের "Proper-Channel" এ যেতে হয়, নাহলে পিতার "Actual-Condition" সন্তানের নিকট প্রকট হবার চরম সম্ভাবনা ক্রমশ বলশালী হয়ে আছড়ে পড়ে . ঠিক যেন ঘূর্ণিঝড়। সন্তান ও তখন  তার কাকুর গাড়ি, জেঠুর বাড়ি, দাদুর অমুক ঠাকুমার তমুক ইত্যাদি জিনিসের উদাহরণ এর বন্যা বইয়ে দেয়,. তাই সাবধান।
       এখন হয়তো শ্রদ্ধেয় পাঠিকা ও পাঠক এই রচনার নামের তাৎপর্য খুঁজে বেড়াচ্ছেন. তাই উপসংহারএ এসে ,বলি Biologically একজন পরিপক্ক "অন্ডকোষ" এর অধিকারী পুরুষ -ই কেবল পিতা হতে পারেন কিন্তু "বাস্তবically" একজন  সুঠাম "অন্ডকোষ"-এর অধিকারী তিনিই যাঁর কাছে "ধন " আছে........ স্বামী  প্রীতিশানন্দ